বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করে নভেম্বরে ভোট শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের পরিকল্পনায় অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর কথা বলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে নভেম্বরকে ভোট শুরুর সময় হিসেবে ধরেছে কমিশন। তবে, অক্টোবরের মধ্যেই প্রস্তুতির সব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
ইসি সূত্র জানা গেছে, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। পৌরসভা নির্বাচনও প্রথম ধাপের সঙ্গে হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনি সামগ্রী, বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা বেশ কিছু নির্বাচনি সামগ্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে নতুন করে সব সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হবে না।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এ সময় কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইন ও বিধিবিধানমালা সংশোধন অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করতে হবে কমিশনকে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বরকে লক্ষ্য করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল এই সময়টিই দেশে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত মৌসুম। তবে এর মধ্যে দুর্গাপূজা, ঈদ, রমজানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগে করার বিষয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে, কোন কোন ইউনিয়নে ভোট হবে, সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা কোথায় রয়েছে এবং কোনো এলাকায় মামলা চলমান আছে কি না এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে। জটিলতা থাকা ইউনিয়নগুলো বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সম্প্রতি বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি থাকলেই হবে না; সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতিও প্রয়োজন। এ কারণে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই কোন নির্বাচন কখন হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।
সিইসি বলেন, ভোটের সময় নির্ধারণে আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোট গ্রহণের কাজে ব্যবহারের বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। ফলে কমিশন এখনই নির্দিষ্ট ভোটের দিন ঘোষণা না করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছে কমিশন। এ এম এম নাসির উদ্দীন ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তুলনামূলক বেশি সহিংসতার প্রবণতা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সরকারের লক্ষ্য চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ নির্বাচন শেষ করা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করা হবে। এগুলো হলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন।
এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই তফসিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ওই বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ভয়েস/আআ